Saturday, August 8, 2026
Friday, July 26, 2024
Tuesday, May 28, 2024
Saturday, January 27, 2024
গুণ অনুসারে বচনের শ্রেণীবিভাগ করো।
নিরপেক্ষ বচনে গুণের ভূমিকা:
নিরপেক্ষ বচনে গুণের যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে, তা আদৌ অস্বীকার করা যায় না। কারণ যেকোনো নিরপেক্ষ বচনে উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিধেয়তে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়।এই স্বীকার বা অস্বীকার করা টাই হলো নিরপেক্ষ বচনের গুণের বিষয়।যখন উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিধেয়তে কিছু স্বীকার করা হয় তখন তাকে স্বীকৃতি সূচক বা হ্যাঁ বাচক রূপে গণ্য করা হয় আর অস্বীকার করলে নঞর্থক বা না বাচক রূপে গণ্য করা হয়।
গুণ অনুসারে বচনের শ্রেণীবিভাগ:
গুণ অনুসারে বচনকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।সদর্থক বা হ্যাঁ বাচক এবং নঞর্থক বা না বাচক ।
সদর্থক বা হ্যাঁ বাচক বচন
যে নিরপেক্ষ বচনে উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিধেয় তে কোনো কিছু কে স্বীকার করা হয় তাকে সদর্থক বা হ্যাঁ বাচক বচন বলে।
উদাহরণ:
•সকল দার্শনিক হন চিন্তাশীল।
•কোনো কোনো দার্শনিক হয় সুখী।
ব্যাখ্যা:
এই দুটি দৃষ্টান্তেই উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিধেয় তে কিছু বিষয় কে যথাক্রমে হন বা হয় দুটি দ্বারা স্বীকার করা হয়েছে।
নঞর্থক বা না বাচক বচন:
যে নিরপেক্ষ বচনে উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিধেয় তে কোনো কিছু কে অস্বীকার করা হয় তাকে নঞর্থক বা না বাচক বচন বলে।
উদাহরণ:
কোনো মানুষ নয় অমর।
কোনো কোনো মানুষ নয় সুখী।
ব্যাখ্যা:
এই দুটি দৃষ্টান্তেই উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিধেয় তে কিছু বিষয় কে যথাক্রমে নয় শব্দ দ্বারা সঅস্বীকার করা হয়েছে।
বচন কাকে বলে ? বচনের বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।
বচন হলো বাক্যের তর্কবিজ্ঞানসম্মত রূপ ও যুক্তির মূল উপাদান:
বচন হলো বাক্যের তর্কবিজ্ঞানসম্মত রূপ। বাক্যে যেমন উদ্দেশ্য ও বিধেয় এর মধ্যে এক প্রকার সম্বন্ধ ঘোষিত হয়, বচনের ক্ষেত্রেও উদ্দেশ্য ও বিধেয় এর মধ্যে এক প্রকার সম্বন্ধ ঘোষিত হয়। এরূপ সম্বন্ধ সদর্থক ভাবেও ঘোষিত হতে পারে, আবার নংয়র্থক ভাবেও ঘোষিত হতে পারে ।এদের সম্বন্ধ আবার শর্ত সাপেক্ষ ভাবেও হতে পারে, আবার শর্তহীনও হতে পারে ।
বচনের বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
1.বচনের মূল উৎস হলো বাক্য। সুতরাং বাক্যকেই বচনের ভিত্তি বলা হয়ে থাকে।বাক্য ছাড়া বচনের অস্তিত্ব হতেই পারে না
2.প্রত্যেকটি বচনে একটি উদ্দেশ্য ও একটি বিধেয় থাকে। শুধুমাত্র উদ্দেশ্য বা বিধেয় নিয়ে বচন গঠিত হতে পারে না।
3.যেকোনো বাক্যে উদ্দেশ্য বিধেয় এর মধ্যে একটি সম্বন্ধ ঘোষণা করা হয় অর্থাৎ উদ্দেশ্য এবং বিধেয় পারস্পরিক ভাবে বিচ্ছিন্ন নয়।
4.উদ্দেশ্য ও বিধেয় এর সম্বন্ধ দুরকম ভাবে হতে পারে। সদর্থক ভাবে ও নিজ্ঞর্থক ভাবে।
5.উদ্দেশ্য ও বিধেয় এর মধ্যে সম্বন্ধ হতে পারে সেটা শর্ত সাপেক্ষ ভাবে হতে পারে আবার শর্তহীন ভাবেও হতে পারে।
6.যেকোনো বচন lই যুক্তির উপাদান বা অবয়বরুপে গণ্য হতে পারে।কারণ যুক্তি গঠিত হয় শুধুমাত্র দিয়েই।
7.সমস্ত বচনই বাক্যরুপে গণ্য হতে পারে কিন্তু সমস্ত বাক্য বচনরুপে গণ্য হতে পারে না ।
8.বচনের সত্যতার উপর যুক্তির বৈধতা নির্ভরশীল।
Saturday, December 30, 2023
বচন সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
উচ্চ মাধ্যমিক দর্শন সাজেশন
HS Philosophy Suggestions
দ্বাদশ শ্রেণীর দর্শন সাজেশন
বচন সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর প্রশ্নমান -১
1.কোন বচনের উভয় পদ ব্যাপ্যা?
উত্তর: E বচনের উভয় পদ ব্যাপ্য।
2.কোন বচনের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য।
উত্তর: A এবং E বচনের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য।
3.কোন বচনের উভয় পদ অব্যাপ্য?
উত্তর: I বচনের উভয় পদ ব্যাপ্য।
4. অবধারণ কাকে বলে?
উত্তর: মনে মনে আমরা যখন একাধিক বিষয়কে সংযুক্ত বা বিযুক্ত করি, তখন তাকে আবধারণ বলে।
5.বাক্য কাকে বলে?
উত্তর: দর্শনের ভাষায় চিন্তার প্রকাশিত রূপকেই বলা হয় বাক্য।
6.বচন কাকে বলে?
উত্তর: বাক্যের পরিশ্রুত ও তর্কবিজ্ঞানসম্মত রূপকেই বলা হয় বচন।
7.সংযোজক কাকে বলে?
উত্তর: বাক্যের ক্ষেত্রে আমরা যাকে ক্রিয়াপদ বলে থাকি, তাকেই বলে সংযোজক।
8. নিরপেক্ষ বচন কাকে?
উত্তর: যে বচনে কোনো শর্ত ছাড়াই উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিধেয়তে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে নেওয়া হয় তাকে নিরপেক্ষ বচন বলে।
9.সাপেক্ষে বচন কাকে বলে?
উত্তর: যে বচনে কোনো শর্ত সহকারে উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিধেয়তে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে নেওয়া হয় সেই বচন কেই সাপেক্ষ বচন বলে।
10. বাক্যের মাধ্যম কী?
উত্তর: বাক্যের মাধ্যম হলো ভাষা।
11.বচনের উৎস কী?
উত্তর: বচনের উৎস বাক্য।
12. বাক্যের কয় অংশ ?
উত্তর: বাক্যের তিনটি অংশ।
13.বচনের কয়টি অংশ?
উত্তর: বচনের 4টি অংশ।
14. গুণ অনুসারে বচন কয় প্রকার?
উত্তর: গুণ অনুসারে বচন দুই প্রকার।
15. পরিমাণ অনুসারে বচন কয় প্রকার?
উত্তর: পরিমাণ অনুসারে বচন দুই প্রকার।
Sunday, December 24, 2023
নীচের বাক্য গুলিকে বচনে পরিণত করো এবং বচন গুলিকে আবর্তন ও বিবর্তন করো:
1.সব ফুল লাল নয়।
L.F. - O কোনো কোনো ফুল নয় লাল। - প্রদত্ত বচন।
O -- বচনের আবর্তন সম্ভব নয়।
I --- কোনো কোনো ফুল হয় অ লাল বস্তু। - বিবর্তন।
2.মানুষ স্বার্থপর।
L.F.- I -- কোনো কোনো মানুষ হয় স্বার্থপর ব্যক্তি। - প্রদত্ত বচন।
I --- কোনো কোনো স্বার্থপর ব্যক্তি হয় মানুষ। - আবর্তন।
O -- কোনো কোনো মানুষ নয় অ-স্বার্থপর ব্যক্তি। - বিবর্তন।
3. কোনো মানুষ পূর্ণ নয়।
L.F. - E -- কোনো মানুষ নয় পূর্ণ। - প্রদত্ত বচন।
E -- কোনো পূর্ণ নয় মানুষ । - আবর্তন।
A -- সকল মানুষ হয় অ পূর্ণ। - বিবর্তন।
4. সব সাপের বিষ নেই।
L.F. - O--কোনো কোনো সাপ নয় বিষধর প্রাণী। - প্রদত্ত বচন।
O--- বচনের আবর্তন সম্ভব নয়।
I -- কোনো কোনো সাপ হয় অ-বিষধর প্রাণী। - বিবর্তন।
নীচের বাক্য গুলিকে বচনে পরিণত করো।বচন গুলির আবর্তিতের বিবর্তিত রূপ দাও:
1.শুধু ধার্মিক ব্যক্তিরাই সুখী।
L.F.- A--- সকল সুখী ব্যক্তি হয় ধার্মিক ব্যক্তি। - প্রদত্ত বচন।
I--- কোনো কোনো ধার্মিক ব্যক্তি হয় সুখী ব্যক্তি - আবর্তিত।
O--- কোনো কোনো ধার্মিক ব্যক্তি নয় অ-সুখী ব্যক্তি - বিবর্তিত।
2. অসৎ মানুষ আছে।
L.F.- I --- কোনো কোনো মানুষ হয় অসৎ ব্যক্তি- প্রদত্ত বচন।
I --- কোনো কোনো অসৎ ব্যক্তি হয় মানুষ - আবর্তিত।
O --- কোনো কোনো অসৎ ব্যক্তি নয় অ-মানুষ - বিবর্তিত।
3. স্তন্যপায়ী পাখি নেই।
L.F.- E ---কোনো কোনো পাখি নয় স্তন্যপায়ী প্রাণী - প্রদত্ত বচন।
E--- কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণী নয় পাখি - আবর্তিত।
A--- সকল স্তন্যপায়ী প্রাণী হয় অ-পাখি - বিবর্তিত।
O বচনের আবর্তন কেন বৈধ নয় বা সম্ভব নয়?
O- বচনের আবর্তন কেন বৈধ নয় বা সম্ভব নয়?
(Why O-Proposition cannot be converted?)
উত্তর : O-বচনের আবর্তন বৈধ নয়। -বচনকে আবর্তন করা যায় না। -বচনকে আবর্তন করলে আবর্তনের নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়। আবর্তনের ক্ষেত্রে গুণের পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ আবর্তনীয় বচন নঞর্থক হলে আবর্তিত বচন নঞর্থক হবে। এক্ষেত্রে আবর্তনীয় -বচন নঞর্থক হওয়ায় আবর্তিত বচন নঞর্থক অর্থাৎ E অথবা O হবে। কিন্তু আবর্তিত বচন E হতে পারে না। কারণ অবরোহ অনুমানে সিদ্ধান্ত কখনও আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপক হবে না। ০- বচনের ব্যাপকতা থেকে E বচনের ব্যাপকতা বেশি। এজন্য আবর্তিত বচনটি অবশ্যই O হবে। এর ফলে আবর্তিত বচনের বিধেয়পদ ব্যাপ্য হবে। কিন্তু ওই পদ আবর্তনীয় -বচনের উদ্দেশ্য স্থানে থাকায় অব্যাপ্য হয়। সুতরাং, অনুমানটি আবর্তনের নিয়ম লঙ্ঘন করে। নিয়ম অনুসারে আবর্তনীয় বচনে, যে পদ ব্যাপ্য নয় সেই পদ আবর্তিত বচনে ব্যাপ্য হবে না।
দৃষ্টান্ত:
O – কোনো কোনো মানুষ নয় সুখী ব্যক্তি – আবর্তনীয়।
O – কোনো কোনো সুখী ব্যক্তি নয় মানুষ - আবর্তিত।
উক্ত দৃষ্টান্তে আবর্তনীয় বচনের উদ্দেশ্যপদ “মানুষ” অব্যাপ্য। কারণ - বচনে কেবল বিধেয়-পদ ব্যাপ্য। কিন্তু ওই পদ আবর্তিত - বচনে বিধেয়পদ হওয়ায় ব্যাপ্য হয়। ফলে আবর্তনের নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়।এজন্য বচনের আবর্তন সম্ভব নয়।
বিবর্তন কাকে বলে? বিবর্তনের নিয়ম গুলি কী কী?
বিবর্তন: যে অমাধ্যম অনুমানে যুক্তিবাক্য ও সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্যকে একই রেখে যুক্তি বাক্যের বিধেয়ের বিরুদ্ধ পদকে সিদ্ধান্তের বিধেয় রুপে গণ্য করে , অর্থটিকে একই রাখা হয় এবং সিদ্ধান্তে একটি নতুন বচন প্রতিষ্ঠা করা হয়, সেই অমাধ্যম অনুমানকেই বলা হয় বিবর্তন।
বিবর্তনের নিয়ম:
•যুক্তিবাক্য ও সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য এক হবে।
•যুক্তিবাক্যের বিধেয় এর বিরুদ্ধ পদ সিদ্ধান্তের বিধেয় হবে।
•যুক্তিবাক্য ও সিদ্ধান্তের গুণ ভিন্ন হবে। অর্থাৎ যুক্তিবাক্য হ্যাঁ বাচক হলে সিদ্ধান্ত টি না বাচক হবে আর যুক্তিবাক্য না বাচক হলে সিদ্ধান্ত টি হ্যাঁ বাচক হবে।
•যুক্তিবাক্য ও সিদ্ধান্তের পরিমাণ এক হবে। অর্থাৎ যুক্তিবাক্য সামান্য হলে সিদ্ধান্ত বিশেষ হবে এবং যুক্তিবাক্য বিশেষ হলে সিদ্ধান্ত সামান্য হবে।
অথবা
A বচনকে বিবর্তন করলে E বচন পাওয়া যায়।
E বচনকে বিবর্তন করলে A বচন পাওয়া যায়।
I বচনকে বিবর্তন করলে O বচন পাওয়া যায়।
O বচনকে বিবর্তন করলে I বচন পাওয়া যায়।
"বিধেয় এর আগে নয় যোগ করে বিধেয় কে বিপরীত বা অ যোগ করতে হয়।"
আবর্তন কাকে বলে? আবর্তনের নিয়ম গুলি আলোচনা করো।
আবর্তন: যে অমাধ্যম অনুমানে যুক্তি বাক্যের উদ্দেশ্য এবং বিধেয়ের স্থান পরিবর্তন ঘটিয়ে এবং অর্থটিকে একই রেখে সিদ্ধান্তে একটি নতুন বচন প্রতিষ্ঠা করা হয়, সেই অমাধ্যম অনুমানকেই বলা হয় আবর্তন।
আবর্তনের নিয়ম:
•যুক্তি বাক্যের উদ্দেশ্য পদটি সিদ্ধান্তের বিধেয় হবে।
•যুক্তি বাক্যের বিধেয় পদটি সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হবে।
•যুক্তি বাক্য ও সিদ্ধান্তের গুণ একই হবে। যুক্তি বাক্য হ্যাঁ বচন হলে সিদ্ধান্ত হ্যাঁ বাচক হবে, যুক্তি বাক্য না বাচক হলে সিদ্ধান্ত না বচক হবে।
• যে পদ যুক্তি বাক্যে ব্যাপ্য নয় সে পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হতে পারে না।
অথবা
A বচনকে আবর্তন করলে I বচন পাওয়া যায়।
E বচনকে আবর্তন করলে E বচন পাওয়া যায়।
I বচনকে আবর্তন করলে I বচন পাওয়া যায়।
O বচনের আবর্তন সম্ভব নয়।
*উদ্দেশ্য কে বিধেয় এবং বিধেয় কে উদ্দেশ্য করতে হয়।
অমাধ্যম অনুমান কাকে বলে?
অমাধ্যম অনুমান: যে অবরোহ অনুমানে একটি মাত্র আশ্রয় বাক্য থেকে , অর্থের পরিবর্তন না করে, নিয়ম অনুসরণ করে, সরাসরি সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত করা হয়, তাকে অমাধ্যম অনুমান বলে ।
Saturday, December 23, 2023
বৈকল্পিক নিরপেক্ষ ন্যায় এর নিয়ম
উচ্চ মাধ্যমিক দর্শন সাজেশন || HS Philosophy Suggestions
দ্বাদশ শ্রেণীর দর্শন সাজেশন || Class XII Philosophy Suggestion ||
বৈকল্পিক ন্যায় এর নিয়ম গুলি হলো নিম্নরূপ -
I) এই ন্যায় এ তিনটি বচন থাকে। একটি বৈকল্পিক বচন অন্য দুটি নিরপেক্ষ বচন।
ii) বৈকল্পিক বচন থাকে প্রধান আশ্রয় বাক্যে।
iii) নিরপেক্ষ বচন দুটি থাকে অপ্রধান আশ্রয় বাক্যে এবং সিদ্ধান্তে।
iv) প্রধান আশ্রয় বাক্যের একটি বাক্যকে অপ্রধান আশ্রয় বাক্যে অস্বীকার করে সিদ্ধান্তে প্রধান আশ্রয় বাক্যের অন্য বাক্যটিকে স্বীকার করতে হয়।
বৈকল্পিক ন্যায় বা বৈকল্পিক নিরপেক্ষ ন্যায় কাকে বল? বৈকল্পিক ন্যায় কয় প্রকার ও কী কী?
HS Philosophy Suggestions || Darshan Shiksha || দর্শন সাজেশন || দর্শন শিক্ষা || দ্বাদশ শ্রেণীর দর্শন সাজেশন || Class XII Philosophy Suggestion || Class 12 Philosophy Suggestions || উচ্চ মাধ্যমিক দর্শন সাজেশন || আধুনিক দর্শন || Adhunik Darshan ||
*বৈকল্পিক নিরপেক্ষ ন্যায় :
উত্তর - যে সাপেক্ষ ন্যায়ের একটি আশ্রয়বাক্য বৈকল্পিক বচন অপর আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত উভয়ই নিরেপেক্ষ বচন তাকে বৈকলপিক নিরেপেক্ষ ন্যায় বলে। বৈকল্পিক ন্যায় দুই প্রকার হতে পারে।
i) মিশ্র বৈকল্পিক ন্যায় অথবা বৈকল্পিক নিরপেক্ষ ন্যায় এবং ii) অমিশ্র বৈকল্পিক ন্যায়।
i) মিশ্র বৈকল্পিক ন্যায় অথবা বৈকল্পিক নিরপেক্ষ ন্যায়:
বৈকল্পিক নিরপেক্ষ ন্যায় হলো এমন এক মিশ্র ন্যায় যার প্রধান আশ্রয় বাক্যটি বৈকল্পিক বচন এবং অপ্রধান আশ্রয় বাক্য ও সিদ্ধান্ত টি নিরপেক্ষ বচন।
উদাহরণ:
*যদু হয় পরিশ্রমী অথবা সূক্ষ্ম বুদ্ধিসম্পন্ন, যদু নয় পরিশ্রমী অতএব যদু হয় সূক্ষ্ম বুদ্ধিসম্পন্ন।
L.F. (A) যদু হয় পরিশ্রমী অথবা সূক্ষ্ম বুদ্ধিসম্পন্ন।
(E) যদু নয় পরিশ্রমী।
.'.(A) যদু হয় সূক্ষ্ম বুদ্ধিসম্পন্ন।
সাংকেতিক আকার:
যদি P অথবা Q
Not P
.'. Q
পরিচিতি:এটি একটি বৈকল্পিক ন্যায়ের দৃষ্টান্ত।
ব্যাখ্যা:এই বৈ কল্পিক ন্যায় অনুমানটি বৈধ। কারণ বৈকল্পিক ন্যায়ের নিয়ম হলো প্রধান আশ্রয় বাক্যের একটি বাক্যকে অপ্রধান আশ্রয় বাক্যে অস্বীকার করে অন্য বাক্যটিকে সিদ্ধান্তে স্বীকার করা। ন্যায় অনুমানের এই নিয়মটি মেনে চলাই ন্যায় অনুমানটি বৈধ।
*হরি বাজারে গিয়ে চিংড়ি মাছ কিনবে অথবা ইলিশ মাছ কিনবে, হরি বাজারে গিয়ে চিংড়ি মাছ কিনবে অতএব হরি বাজারে গিয়ে ইলিশ মাছ কিনবে না।
L.F. - (A) হরি বাজারে গিয়ে চিংড়ি মাছ কিনবে অথবা ইলিশ মাছ কিনবে।
(A) হরি বাজারে গিয়ে চিংড়ি মাছ কিনবে।
.'. (E) হরি বাজারে গিয়ে ইলিশ মাছ কিনবে না।
সাংকেতিক আকার:
যদি P অথবা Q
P
.'. not Q
পরিচিতি: এটি একটি বৈকল্পিক ন্যায়ের দৃষ্টান্ত।
দোষ: বিকল্প স্বীকার জনিত দোষ।
ব্যাখ্যা: এই বৈকল্পিক ন্যায় অনুমানটি অবৈধ।কারণ বৈকল্পিক ন্যায় অনুমানের নিয়ম হলো প্রধান আশ্রয় বাক্যের একটি বিকল্পকে অপ্রধান আশ্রয় বাক্যে অস্বীকার করে সিদ্ধান্তে প্রধান আশ্রয় বাক্যের অন্য টিকে সিদ্ধান্তে স্বীকার করতে হয়। কিন্তু এখানে তার বিপরীত ঘটেছে। তাই অনুমানটি দোষ যুক্ত হয়ে পড়েছে।
ii)অমিশ্র বৈকল্পিক ন্যায়:
অমিশ্র বৈ কল্পিক ন্যায়ের তিনটি বচনই বৈকল্পিক বচন।
Wednesday, December 20, 2023
সিদ্ধান্ত চেনার নিয়ম
উচ্চ মাধ্যমিক দর্শন সাজেশন / HS Philosophy Suggestions
Higher Secondary Philosophy Suggestion
Class XII Philosophy Suggestion
#philosophysuggestions
www.darshanshiksha.blogspot.com
নিরপেক্ষ ন্যায়ের সিদ্ধান্ত বের করার নিয়ম
সিদ্ধান্ত চেনার নিয়ম গুলি নিম্নরূপ:
1.সুতরাং, অতএব, তাই, তাই বলা যায়, কাজেই, কাজে কাজেই, ফলে এগুলো যে বাক্যে থাকে সেই বাক্যটিকে সিদ্ধান্ত করতে হয়।
2.কারণ, কেননা এগুলো শব্দ যে বাক্যে থাকে তার আগের বাক্যটিকে সিদ্ধান্ত করতে হয়।
3.যেহেতু থাকলে সেহেতু অংশ খুঁজে সিদ্ধান্ত করতে হয়।
Tuesday, December 19, 2023
প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানের উদাহরণ
1.যদি রাম আসে তবে শ্যাম যাবে, রাম এলো অতএব শ্যাম যাবে।
উত্তর:
যদি রাম আসে তবে শ্যাম যাবে
রাম এলো
.'. শ্যাম যাবে।
সাংকেতিক আকার:
যদি P তবে Q
P
.'. Q
পরিচিতি:এটি একটি প্রাকল্পিক ন্যায়ের দৃষ্টান্ত।
ব্যাখ্যা:এই প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানটি বৈধ।কারণ প্রধান আশ্রয় বাক্যের পূর্বগকে অপ্রধান আশ্রয় বাক্যে স্বীকার করে সিদ্ধান্তে প্রধান আশ্রয় বাক্যের অনুগকে স্বীকার করেছে।এই প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানটি গঠনমূলক প্রাকল্পিক ন্যায়।অন্য ভাবে বলা যায় যে এই প্রাকল্পিক ন্যায়টি স্বীকৃতিমূলক রূপে M.P তে আছে।
2.যদি রাম পরিশ্রমী হয় তবে পাশ করবে, রাম পরীক্ষায় পাশ করেছে,সুতরাং রাম পরিশ্রমী।
উত্তর:
যদি রাম পরিশ্রমী হয় তবে পাস করবে
রাম পরীক্ষায় পাশ করেছে
.'. রাম পরিশ্রমী।
সাংকেতিক আকার:
যদি P তবে Q
Q
.'. P
পরিচিতি: এটি একটি প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানের দৃষ্টান্ত।
দোষ: অনুগ স্বীকার জনিত দোষ।
ব্যাখ্যা: এই প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানটি বৈধ।কারণ প্রধান আশ্রয় বাক্যের অনুগ কে অপ্রধান আশ্রয় বাক্যে স্বীকার করে সিদ্ধান্তে প্রধান আশ্রয় বাক্যের পূর্বগকে স্বীকার করা হয়েছে। প্রাকল্পিক ন্যায়ের নিয়ম হলো প্রধান আশ্রয় বাক্যের পূর্ব গ কে অপ্রধান আশ্রয় বাক্যে স্বীকার করে সিদ্ধান্তে প্রধান আশ্রয় বাক্যের অনুগ কে স্বীকার করতে হয়। ন্যায়ের এই নিয়মটি লঙ্ঘন করাই অনুমানটি দোষ যুক্ত হয়ে পড়েছে । তাই প্রাকল্পিক ন্যায়টি অনুগ স্বীকার জনিত দোষে দুষ্ট।
3.যদি তুমি পরিশ্রমী হও তবে তুমি অর্থ উপার্জন করবে।তুমি প্রভূত অর্থ উপার্জন করনা, অতএব তুমি পরিশ্রমী নও ।
উত্তর:
যদি তুমি পরিশ্রমী হও তবে তুমি অর্থ উপার্জন করবে
তুমি প্রভূত অর্থ উপার্জন করনা
.'. তুমি পরিশ্রমী নও ।
সাংকেতিক আকার :
যদি P তবে Q
~Q
.'. ~P
পরিচিতি: এটি একটি প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানের দৃষ্টান্ত।
ব্যাখ্যা: এই প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানটি বৈধ।কারণ প্রধান আশ্রয় বাক্যের অনুগ কে অপ্রধান আশ্রয় বাক্যে অস্বীকার করে সিদ্ধান্তে প্রধান আশ্রয় বাক্যের পূর্ব গ কে অস্বীকার করা হয়েছে। এই প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানটি ধ্বংস মূলক প্রাকল্পিক ন্যায়। অন্যভাবে বলা যায় যে প্রাকল্পিক ন্যায়অনুমানটি ধ্বংসমূলক রুপে M.T তে আছে।
4.যদি বৃষ্টি হয় তবে ভালো ফসল হবে। বৃষ্টি হয়নি অতএব ভালো ফসল হয়নি।
উত্তর:
যদি বৃষ্টি হয় তবে ভালো ফসল হবে
বৃষ্টি হয়নি
.'.ভালো ফসল হয়নি।
সাংকেতিক আকার:
যদি P তবে Q
~P
.'.~Q
পরিচিতি: এটি একটি প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানের দৃষ্টান্ত।
দোষ:এই প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানটি পূর্ব গ অস্বীকার জনিত দোষে দুষ্ট।
ব্যাখ্যা: এই প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানটি অবৈধ। কারণ এখানে প্রাকল্পিক ন্যায় এর নিয়মটি লঙ্ঘন করা হয়েছে।
প্রাকল্পিক ন্যায় এর নিয়ম হলো প্রধান আশ্রয় বাক্যের অনুগকে অপ্রধান
আশ্রয় বাক্যে অস্বীকার করে সিদ্ধান্তে প্রধান আশ্রয় বাক্যের পূর্বগকে
অস্বীকার করতে হয়। কিন্তু এর বিপরীত ক্রম চলবে না। এখানে প্রধান আশ্রয়
বাক্যের পূর্বগকে অপ্রধান আশ্রয় বাক্যে অস্বীকার করে সিদ্ধান্তে প্রধান
আশ্রয় বাক্যের অনুগকে অস্বীকার করা হয়েছে। তাই ন্যায় অনুমানটি পূর্বগ
অস্বীকার জনিত দোষে দুষ্ট।
Saturday, December 2, 2023
প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানের নিয়ম
প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানের নিয়ম এর নিয়ম গুলি হলো -
বৈধ:
1.প্রধান আশ্রয় বাক্যের পূর্বগ কে অপ্রধান আশ্রয় বাক্যে স্বীকার করে সিদ্ধান্তে অনুগ কে স্বীকার করতে হয়।এই নিয়মটি কে বলা হয় গঠনমূলক প্রাকল্পিক ন্যায় বা অন্যভাবে বলা যায় যে এই প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানটি স্বীকৃতিমূলক রূপে M.P. তে আছে।
2.প্রধান আশ্রয় বাক্যের অনুগ কে অপ্রধান আশ্রয় বাক্যে অস্বীকার করে সিদ্ধান্তে পূর্বগ কে অস্বীকার করতে হয়। এই নিয়মটি কে বলা হয় ধ্বংসমূলক প্রাকল্পিক ন্যায় বা অন্যভাবে বলা যায় যে এই প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানটি ধ্বংসমূলক রুপে M.T. তে আছে।
অবৈধ:
1.প্রধান আশ্রয় বাক্যের অনুগ কে অপ্রধান আশ্রয় বাক্যে স্বীকার করে সিদ্ধান্তে পূর্বগ কে স্বীকার করা হলে , ন্যায় অনুমানটি অনুগ স্বীকারজনিত দোষে দুষ্ট হয়।
2.প্রধান আশ্রয় বাক্যের পূর্বগ কে অপ্রধান আশ্রয় বাক্যে অস্বীকার করে সিদ্ধান্তে অনুগ কে অস্বীকার করলে ন্যায় অনুমানটি পূর্বগ অস্বীকারজনিত দোষে দুষ্ট হয়।
প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানের গঠন:
1.
বৈধ:
যদি P তবে Q
P
.`. Q
গঠন মূলক প্রাকল্পিক ন্যায়(M.P)
অবৈধ:
যদি P তবে Q
Q
.'. P
অনুগ স্বীকারজনিত দোষ
2.
বৈধ:
যদি P তবে Q
~ Q
.'. ~ P
ধ্বংসমূলক প্রা কল্পিক ন্যায়(M.T)
অবৈধ:
যদি P তবে Q
~P
.'. ~Q
পূর্বগ অস্বীকার জনিত দোষ।
উদাহরণ:-
1.যদি রাম আসে তবে শ্যাম যাবে, রাম এলো অতএব শ্যাম যাবে।
উত্তর:
যদি রাম আসে তবে শ্যাম যাবে
রাম এলো
.'. শ্যাম যাবে।
সাংকেতিক আকার:
যদি P তবে Q
P
.'. Q
পরিচিতি:এটি একটি প্রাকল্পিক ন্যায়ের দৃষ্টান্ত।
ব্যাখ্যা:এই প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানটি বৈধ।কারণ প্রধান আশ্রয় বাক্যের পূর্বগকে অপ্রধান আশ্রয় বাক্যে স্বীকার করে সিদ্ধান্তে প্রধান আশ্রয় বাক্যের অনুগকে স্বীকার করেছে।এই প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানটি গঠনমূলক প্রাকল্পিক ন্যায়।অন্য ভাবে বলা যায় যে এই প্রাকল্পিক ন্যায়টি স্বীকৃতিমূলক রূপে M.P তে আছে।
2.যদি রাম পরিশ্রমী হয় তবে পাশ করবে, রাম পরীক্ষায় পাশ করেছে,সুতরাং রাম পরিশ্রমী।
উত্তর:
যদি রাম পরিশ্রমী হয় তবে পাস করবে
রাম পরীক্ষায় পাশ করেছে
.'. রাম পরিশ্রমী।
সাংকেতিক আকার:
যদি P তবে Q
Q
.'. P
পরিচিতি: এটি একটি প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানের দৃষ্টান্ত।
দোষ: অনুগ স্বীকার জনিত দোষ।
ব্যাখ্যা: এই প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানটি বৈধ।কারণ প্রধান আশ্রয় বাক্যের অনুগ কে অপ্রধান আশ্রয় বাক্যে স্বীকার করে সিদ্ধান্তে প্রধান আশ্রয় বাক্যের পূর্বগকে স্বীকার করা হয়েছে। প্রাকল্পিক ন্যায়ের নিয়ম হলো প্রধান আশ্রয় বাক্যের পূর্ব গ কে অপ্রধান আশ্রয় বাক্যে স্বীকার করে সিদ্ধান্তে প্রধান আশ্রয় বাক্যের অনুগ কে স্বীকার করতে হয়। ন্যায়ের এই নিয়মটি লঙ্ঘন করাই অনুমানটি দোষ যুক্ত হয়ে পড়েছে । তাই প্রাকল্পিক ন্যায়টি অনুগ স্বীকার জনিত দোষে দুষ্ট।
3.যদি তুমি পরিশ্রমী হও তবে তুমি অর্থ উপার্জন করবে।তুমি প্রভূত অর্থ উপার্জন করনা, অতএব তুমি পরিশ্রমী নও ।
উত্তর:
যদি তুমি পরিশ্রমী হও তবে তুমি অর্থ উপার্জন করবে
তুমি প্রভূত অর্থ উপার্জন করনা
.'. তুমি পরিশ্রমী নও ।
সাংকেতিক আকার :
যদি P তবে Q
~Q
.'. ~P
পরিচিতি: এটি একটি প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানের দৃষ্টান্ত।
ব্যাখ্যা: এই প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানটি বৈধ।কারণ প্রধান আশ্রয় বাক্যের অনুগ কে অপ্রধান আশ্রয় বাক্যে অস্বীকার করে সিদ্ধান্তে প্রধান আশ্রয় বাক্যের পূর্ব গ কে অস্বীকার করা হয়েছে। এই প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানটি ধ্বংস মূলক প্রাকল্পিক ন্যায়। অন্যভাবে বলা যায় যে প্রাকল্পিক ন্যায়অনুমানটি ধ্বংসমূলক রুপে M.T তে আছে।
4.যদি বৃষ্টি হয় তবে ভালো ফসল হবে। বৃষ্টি হয়নি অতএব ভালো ফসল হয়নি।
উত্তর:
যদি বৃষ্টি হয় তবে ভালো ফসল হবে
বৃষ্টি হয়নি
.'.ভালো ফসল হয়নি।
সাংকেতিক আকার:
যদি P তবে Q
~P
.'.~Q
পরিচিতি: এটি একটি প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানের দৃষ্টান্ত।
দোষ:এই প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানটি পূর্ব গ অস্বীকার জনিত দোষে দুষ্ট।
ব্যাখ্যা: এই প্রাকল্পিক ন্যায় অনুমানটি অবৈধ। কারণ এখানে প্রাকল্পিক ন্যায় এর নিয়মটি লঙ্ঘন করা হয়েছে। প্রাকল্পিক ন্যায় এর নিয়ম হলো প্রধান আশ্রয় বাক্যের অনুগকে অপ্রধান আশ্রয় বাক্যে অস্বীকার করে সিদ্ধান্তে প্রধান আশ্রয় বাক্যের পূর্বগকে অস্বীকার করতে হয়। কিন্তু এর বিপরীত ক্রম চলবে না। এখানে প্রধান আশ্রয় বাক্যের পূর্বগকে অপ্রধান আশ্রয় বাক্যে অস্বীকার করে সিদ্ধান্তে প্রধান আশ্রয় বাক্যের অনুগকে অস্বীকার করা হয়েছে। তাই ন্যায় অনুমানটি পূর্বগ অস্বীকার জনিত দোষে দুষ্ট।
Thursday, November 23, 2023
বস্তুগত বিবর্তন কী? বস্তুগত বিবর্তন কি যথার্থ বিবর্তন? অথবা, বস্তুগত বিবর্তনের বৈশিষ্ট্যগুলি কী? একে কেন যথার্থ বিবর্তনের মর্যাদা দেওয়া যায় না?
অথবা, বস্তুগত বিবর্তনের বৈশিষ্ট্যগুলি কী? একে কেন যথার্থ বিবর্তনের মর্যাদা দেওয়া যায় না?
বস্তুগত বিবর্তন:
বিবর্তনের সাধারণ আকারগত রূপ ছাড়াও বস্তুগত বিবর্তন (material obversion) নামে আরও একপ্রকার বিবর্তনের পরিচয় পাওয়া যায়। এই ধরনের বিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন প্রখ্যাত তর্কবিদ আলেকজান্ডার বেন (Alexzender Bain)। তিনি এই ধরনের বিবর্তনকে যথার্থ বিবর্তনরূপেই গণ্য করেছেন। এই ধরনের বিবর্তনের ক্ষেত্রে কিন্তু আকারগত বিবর্তনের যে নিয়মগুলি আছে, সেগুলিকে আদৌ অনুসরণ করা হয় না। এরূপ বিবর্তনের ক্ষেত্রে তাই বিবর্তনীয় বাক্য তথা যুক্তিবাক্যের পদ দুটির অর্থগত বিরুদ্ধ পদ দুটিকে সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ও বিধেয় রূপে গণ্য করে একটি নতুন বচন প্রতিষ্ঠা করা হয়। এক্ষেত্রে যুক্তিবাক্যের
উদ্দেশ্যের অর্থগত বিরুদ্ধ পদকে সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হিসেবে এবং বিধেয়ের অর্থগত বিরুদ্ধ পদকে সিদ্ধান্তের বিধেয় হিসেবে গণ্য করা হয়। এই অর্থগত বিরুদ্ধ পদ চয়ন করার জন্য আমাদের অভিজ্ঞতাকেই মূলত কাজে লাগানো হয়ে থাকে। কয়েকটি উদাহরণের সাহায্যে বস্তুগত বিবর্তনের বিষয়টি আরও সহজে উল্লেখ করা যায়-
উদাহরণ 1
জ্ঞান হল শক্তি (A) ( আবর্তনীয়)
অজ্ঞানতাই হল দুর্বলতা (A) ↓(আবর্তিত) (বস্তুগতভাবে)
উদাহরণ 2
আলো হল শুভ (A) (আবর্তনীয়)
অন্ধকার হল অ-শুভ (A)↓ (আবর্তিত) (বস্তুগতভাবে)
উদাহরণ 3
সততা হয় ধর্ম (A) (আবর্তনীয়)
অসততা হয় অ-ধর্ম (A) ↓ (আবর্তিত) (বস্তুগতভাবে)
বস্তুগত বিবর্তনের বৈশিষ্ট্য:
বস্তুগত বিবর্তনের উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নের বৈশিষ্ট্যগুলি ফুটে ওঠে।
▶▶প্রথমত: যুক্তিবাক্য ও সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ দুটি পারস্পরিকভাবে বিরুদ্ধ পদরূপে গণ্য।
▶▶ দ্বিতীয়ত: যুক্তিবাক্য ও সিদ্ধান্ত-উভয়েই সদর্থক তথা হ্যাঁ-বাচক বচনরূপে গণ্য।
▶▶তৃতীয়ত: যুক্তিবাক্য ও সিদ্ধান্ত-উভয়েই সামান্য বা সার্বিক বচন রূপে গণ্য।
▶▶ চতুর্থত: বস্তুগত বিবর্তনে বচনের আকারের ওপর গুরত্ব না দিয়ে শুধুমাত্র বিরুদ্ধ অর্থের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
▶▶ পঞ্চমত: বস্তুগত বিবর্তনে বিরুদ্ধ পদের অর্থের ক্ষেত্রে আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
▶▶▶ষষ্ঠত: বস্তুগত বিবর্তনকে আকারগত বিবর্তন না বলে, এক বিশেষ ধরনের আবর্তনরূপে স্বীকার করা হয়েছে।
বস্তুগত বিবর্তনে ওঠা প্রশ্ন:
বস্তুগত বিবর্তনের ক্ষেত্রে যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি উঠে আসে, তা হল বস্তুগত বিবর্তনকে কি প্রকৃত বা যথার্থ বিবর্তন বলা যায়? বেন এবং তাঁর সহযোগীদের দাবি হল বস্তুগত বিবর্তন এক ধরনের যথার্থ বা প্রকৃত বিবর্তনরূপেই গণ্য। কারণ, এখানে একটিমাত্র যুক্তিবাক্য থেকে সিদ্ধান্তে একটি নতুন বচনই প্রতিষ্ঠা করা হয়।
বস্তুগত বিবর্তন কিন্তু প্রকৃত বিবর্তন নয়:
যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বস্তুগত বিবর্তনকে প্রকৃত বা যথার্থ বিবর্তনরূপে গণ্য করা যায় না। কারণ, আমরা যথার্থ বা প্রকৃত অনুমান বলতে আকারগত সাধারণ বিবর্তনকেই বুঝে থাকি। সেখানে আকারই হল সর্বস্ব, অর্থের কোনো ভূমিকা সেখানে নেই। অথচ দেখা যায় যে, বস্তুগত বিবর্তনে আকার এবং আকারের নিয়মগুলিকে উপেক্ষা করে বিরুদ্ধ অর্থের ওপরই সবিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আকারগত বিবর্তনে দাবি করা হয় যে, যুক্তিবাক্য ও সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য একই হবে। কিন্তু বস্তুগত বিবর্তনে যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধ পদকে সিদ্ধান্তের বিধেয়রূপে গণ্য করা হয়েছে। আরও উল্লেখ করা যায় যে, আকারগত বিবর্তনে বলা হয়েছে যে, যুক্তিবাক্য ও সিদ্ধান্তের গুণ ভিন্ন হবে। কিন্তু বস্তুগত বিবর্তনে যুক্তিবাক্য বা সিদ্ধান্তের গুণ একই থাকে। সুতরাং দাবি করা যায় যে, বস্তুগত বিবর্তনকে প্রকৃত বা যথার্থ বিবর্তনের মর্যাদা দেওয়া সংগত নয়।
Friday, November 3, 2023
বচনের বিরোধানুমান আলোচনা করো
» উত্তর : যে অমাধ্যম অনুমানে প্রদত্ত বচনের সত্যতা বা মিথ্যাত্বের ভিত্তিতে তার বিরোধী বচনের সত্যতা বা মিথ্যাত্ব অনুমান করা হয়, তাকে বিরোধানুমান (inference by opposition of propositions ) বলে। একই উদ্দেশ্য ও বিধেয়যুক্ত চারটি নিরপেক্ষ বচনের মধ্যে চার প্রকার যৌক্তিক সম্বন্ধ (Logical | relation) আছে। সম্বন্ধগুলিকে বিরোধিতার সম্বন্ধ বলে। এই চার প্রকার বিরোধিতার সম্বন্ধকে কেন্দ্র করে চার প্রকার বিরোধানুমান রয়েছে। যথা : ১। বিপরীত বিরোধানুমান, ২। অধীন বিপরীত বিরোধানুমান, ৩। বিরুদ্ধ বিরোধানুমান, এবং ৪। অসম বিরোধানুমান।
(১) বিপরীত বিরোধানুমান (Inference by Contrary Opposition) :
দুটি সার্বিক বচনের উদ্দেশ্যপদ ও বিধেয়পদ যদি এক হয় এবং বচন দুটির মধ্যে যদি কেবল গুণগত পার্থক্য থাকে, তবে বচন দুটির পারষ্পরিক সম্বন্ধকে বিপরীত বিরূপতা বলে। বিপরীত বিরূপতা সম্বন্ধের ভিত্তিতে যে অনুমান করা হয়, সেই অনুমানকে বিপরীত বিরূপানুমান বলে বা বিপরীত বিরোধানুমান বলে।
(২) অধীন বিপরীত বিরূপানুমান (Inference by Sub-contrary Opposition) : দুটি বিশেষ বচনের উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদ যদি এক হয় এবং তাদের মধ্যে যদি কেবল গুণের পার্থক্য থাকে তবে বচন দুটির পারস্পরিক সম্বন্ধকে অধীন বিপরীত সম্বন্ধ বলে। অধীন বিপরীত বিরোধিতার ভিত্তিতে যে অনুমান করা হয়, সেই অনুমানকে অধীন বিপরীত বিরূপানুমান বলে।
(৩) বিরুদ্ধ বিরূপানুমান (Inference by Contradictory Opposition) : একই উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদ বিশিষ্ট দুটি বচনের মধ্যে যদি গুণ এবং পরিমাণ উভয়ের পার্থক্য থাকে তবে বচন দুটির পারস্পরিক সম্বন্ধকে বিরুদ্ধ বিরোধিতা সম্বন্ধ বলে। এই সম্বন্ধের ভিত্তিতে যে অনুমান করা হয় সেই অনুমানকে বিরুদ্ধ বিরূপানুমান বলে।
(৪) অসম বিরূপানুমান (Inference by Subaltern Opposition) : একই উদ্দেশ্যপদ ও বিধেয় পদ বিশিষ্ট দুটি বচনের মধ্যে কেবল যদি পরিমাণের পার্থক্য থাকে, গুণের পার্থক্য না থাকে তবে বচন দুটির পারস্পরিক সম্বন্ধকে অসম বিরোধিতা সম্বন্ধ ব'ল। অসম বিরোধিতা সম্বন্ধে যুক্ত দুটি বচনের একটির সত্যমূল্য থেকে অপরটির সত্যমূল্য সম্পর্কে যে অনুমান করা হয় সেই অনুমানকে অসম বিরূপানুমান বলে।
Thursday, November 2, 2023
বচনের বিরোধিতা কাকে বলে? বচনের বিরোধিতা কয় প্রকার ও কী কী?
বচনের বিরোধিতা:
একই উদ্দেশ্য ও বিধেয় বিশিষ্ট দুটি নিরপেক্ষ বচনের মধ্যে যদি কেবল গুণের বা পরিমাণের বা গুণ ও পরিমাণ উভয়ের পার্থক্য থাকে তবে, বচন দুটির পারস্পরিক সম্বন্ধকে বচনের বিরোধিতা বলে।
বচনের বিরোধিতার প্রকারভেদ:
বচনের বিরোধিতা চার প্রকার - বিপরীত বিরোধিতা, অধীন বিপরীত বিরোধিতা, অসম বিরোধিতা, বিরুদ্ধ বিরোধিতা।
বচনে বিরোধিতার চতুষ্কোণ:
১.বিপরীত বিরোধিতা:
একই উদ্দেশ্য ও বিধেয় বিশিষ্ট দুটি সার্বিক বচনের মধ্যে যদি গুণের পার্থক্য থাকে তবে বচন দুটির পারস্পরিক সম্বন্ধকে বিপরীত বিরোধিতা বলে।
A এবং E বচনের মধ্যে বিপরীত বিরোধিতা সম্বন্ধ আছে।
আক্ষরিক দৃষ্টান্ত:
A--- সকল S হয় P
E--- কোনো S নয় P
মূর্ত দৃষ্টান্ত:
A -- সকল মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব।
E -- কোনো মানুষ নয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব।
বৈশিষ্ট্য:এই ক্ষেত্রে বচন দুটির উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদ এক। উভয় বচন সার্বিক বা সামান্য কিন্তু এদুটির মধ্যে গুণের পার্থক্য আছে।প্রথমটি সদর্থক এবং দ্বিতীয়টি নঞর্থক।
২.অধীন বিপরীত বিরোধিতা:
একই উদ্দেশ্য ও বিধেয় বিশিষ্ট দুটি বিশেষ বচনের মধ্যে কেবল গুণের পার্থক্য থাকে তবে বচন দুটির পারস্পরিক সম্বন্ধ কে অধীন বিপরীত বিরোধিতা বলে।
I এবং O এর মধ্যে অধীন বিপরীত বিরোধিতা সম্বন্ধ আছে।
আক্ষরিক দৃষ্টান্ত:
I -- কোনো কোনো S হয় P
O -- কোনো কোনো S নয় P
মূর্ত দৃষ্টান্ত:
I -- কোনো কোনো ফুল হয় লাল বস্তু।
O -- কোনো কোনো ফুল নয় লাল বস্তু।
বৈশিষ্ট্য:
•বচন দুটির উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ অভিন্ন।
•উভয় বচন বিশেষ।
•বচন দুটির গুণের পার্থক্য আছে। একটি সদর্থক ও অন্যটি নঞর্থক।
৩.বিরুদ্ধ বিরোধিতা:
একই উদ্দেশ্য ও বিধেয় বিশিষ্ট দুটি নিরপেক্ষ বচন যদি গুণ ও পরিমাণ উভয় দিক থেকে ভিন্ন হয় তবে,বচন দুটির পারস্পরিক সম্বন্ধ কে বিরুদ্ধ বিরোধিতা বলে।
আক্ষরিক দৃষ্টান্ত:
A--- সকল S হয় P
O -- কোনো কোনো S নয় P
E-- কোনো S নয় P
I-- কোনো কোনো S হয় P
মূর্ত দৃষ্টান্ত:
A--- সকল ঘোড়া হয় চতুষ্পদ জীব।
I-- কোনো কোনো ঘোড়া নয় চতুষ্পদ জীব।
E--- কোনো ঘোড়া নয় চতুষ্পদ জীব।
I-- কোনো কোনো ঘোড়া হয় চতুষ্পদ জীব।
বৈশিষ্ট্য:
•নিরপেক্ষ বচন দুটির উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদ অভিন্ন হবে।
•বচন দুটির মধ্যে গুণের পার্থক্য থাকবে।একটি সদর্থক হলে অন্যটি নঞর্থক হবে। একটি নঞর্থক হলে অন্যটি সদর্থক হবে।
•বচন দুটির মধ্যে পরিমাণের পার্থক্য থাকবে। একটি সার্বিক বা সামান্য হলে অপরটি বিশেষ হবে এবং একটি বিশেষ হলে অন্যটি সার্বিক হবে।
৪.অসম বিরোধিতা:
একই উদ্দেশ্য ও বিধেয় বিশিষ্ট দুটি নিরপেক্ষ বচনের মধ্যে যদি কেবল পরিমাণের পার্থক্য থাকে তবে বচন দুটির পারস্পরিক সম্বন্ধ কে অসম বিরোধিতা বলে।
A এবং I , E এবং O -- এগুলি পরস্পর অসম।
আক্ষরিক দৃষ্টান্ত:
A--- সকল S হয় P
I-- কোনো কোনো S হয় P
এবং
E--- কোনো S নয় P
I-- কোনো কোনো S নয় P
মূর্ত দৃষ্টান্ত:
A--- সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব।
I-- কোনো কোনো মানুষ হয় মরণশীল জীব।
এবং
E-- কোনো মানুষ নয় অমর।
I-- কোনো কোনো মানুষ নয় অমর।
বৈশিষ্ট্য:
•নিরপেক্ষ বচন দুটির উদ্দেশ্য ও বিধেয় অভিন্ন হবে।
•বচন দুটির গুণ অভিন্ন হবে।
•বচন দুটির পরিমাণ ভিন্ন হবে।
•এই সম্বন্ধ A ও I এবং E ও O বচনের মধ্যে থাকে।
Monday, October 30, 2023
পদের ব্যাপ্যতা বলতে কী বোঝায়?
ব্যাপ্যতা শব্দের অর্থ:
তর্কবিদ্যায় ব্যাপ্যতা বলতে বোঝায় কোনো পদের ব্যাপ্যতা। ব্যাপ্যতা শব্দটির অর্থ হল, কোনো একটি পদ ব্যাপ্য (distributed) অথবা অব্যাপ্য (undistributed)। অর্থাৎ ব্যাপ্যতা–ব্যাপ্য অথবা অব্যপ্য। যে-কোনো নিরপেক্ষ বচনে দুটি পদ থাকে। এই দুটি পদের একটি হল উদ্দেশ্য পদ (subject term) এবং অপরটি হল বিধেয় পদ (predicate term)। এই পদ দুটি ব্যাপ্যও হতে পারে আবার অব্যাপ্যও হতে পারে।
পদের ব্যাপ্য হওয়ার লক্ষণ:
একটি পদ একমাত্র তখনই ব্যাপ্য বলে বিবেচিত হবে যখনই সেই পদটির মাধ্যমে তার সম্পূর্ণ পরিমাণকে (ব্যক্তৰ্থকে) উল্লেখ করা যায় অর্থাৎ, কোনো পদের মাধ্যমে যদি তার সম্পূর্ণ ব্যক্তৰ্থকে (denotation) নির্দেশ করা যায়, তাহলে বলতে হবে যে পদটি ব্যাপ্য (distributed)। সুতরাং কোনো পদের ব্যাপ্যতার ক্ষেত্রে সেই পদ দ্বারা নির্দেশিত শ্রেণি বা জাতির পরিপূর্ণ পরিমাণকে তথা সমস্ত সদস্যকে নির্দেশ করা হয়েছে কি না তা দেখা হয়।এক্ষেত্রে যদি দেখা যায় যে, পদটির পরিপূর্ণ ব্যক্তর্থ বা পরিমাণ কে নির্দেশ করা হয়েছে, তবে মেনে নিতে হয় যে পদটি ব্যাপ্য হয়েছে।
উদাহরণ: সকল মানুষ হয় মরণশীল - A বচন
ব্যাখ্যা: এই বচন টিতে দেখা যায় যে, উদ্দেশ্য পদ তথা মানুষ নামক পদটি তার পরিপূর্ণ ব্যক্তর্থ তথা পরিমাণ কে নির্দেশ করতে সমর্থ বলে এই পদটি ব্যাপ্য।
পদের অব্যাপ্য হওয়ার লক্ষণ:
কোনো পদ একমাত্র তখনই অব্যাপ্য বলে বিবেচিত হবে, যখনই সেই পদটির মাধ্যমে তার সম্পূর্ণ ব্যর্থ তথা পরিমাণকে উল্লেখ না করে, তার আংশিক পরিমাণকে উল্লেখ করতে সমর্থ হয় অর্থাৎ, পদের অব্যাপ্যতার অর্থ হল সেই পদ দ্বারা নির্দেশিত পরিপূর্ণ পরিমাণকে উল্লেখ করতে না পারা। এক্ষেত্রে তাই শুধুমাত্র পদের আংশিক পরিমাণের উল্লেখ করা হয়ে থাকে।
উদাহরণ:কোনো কোনো মানুষ হয় মরণশীল।I বচন
ব্যাখ্যা:এই বচনটিতে দেখা যায় যে, উদ্দেশ্য পদ তথা মানুষ তার পরিপূর্ণ ব্যক্তর্থ বা পরিমাণকে উল্লেখ করতে সমর্থ নয় বলে তা ব্যাপ্য নয়, তা হল অব্যাপ্য। আবার মরণশীল নামক বিধেয় পদটিও পরিপূর্ণ পরিমাণকে নির্দেশ করতে সমর্থ নয় বলে তাও অব্যাপ্য রূপে গণ্য কারণ, মানুষ ছাড়াও আরও জীব আছে যারা মরণশীল। সুতরাং দেখা যায় যে, এরূপ বচনটিতে উদ্দেশ্য এবং বিধেয় পদ দুটিই অব্যাপ্য।
নিম্নলিখিত বাক্যগুলি কে বচনে পরিণত কর
1) শিশুরা সরল।
L.F. A-সকল শিশু হয় সরল।
2) লীলা গায়িকা।
L.F. A- লীলা হয় গায়িকা।
3) আম মিষ্টি।
L.F. I -কোন কোন আম হয় মিষ্টি।
4)যেখানেই ধুম সেখানেই বহ্নি।
L.F. A -সকল ধূমবান স্থান হয় বহ্নিমান স্থান।
5)সব রোগ মারাত্মক নয়।
L.F. O-কোন কোন রোগ নয় মারাত্মক।
6) কোন পাখি পশু নয়।
L.F. E-কোন পাখি নয় পশু।
7) এখন গরম নয়।
L.F. E-বর্তমান সময়টি নয় গরম।
8) দৃশ্যটি মনোরম।
L.F. A- দৃশ্যটি হয় মনোরম।
9) স্বার্থপর মানুষ আছে।
L.F. I-কোন কোন মানুষ হয় স্বার্থপর ব্যক্তি।
10) সব বাক্যবচন নয়।
L.F. O- কোন কোন বাক্য নয় বচন।
11) পারদ ছাড়া সব ধাতু কঠিন।
L.F. A - সকল অ পারদ হয় কঠিন ধাতু।
এবং L.F. E- কোন পারদ নয় কঠিন ধাতু।
12) মানুষ মদ্যপান করে।
L.F. I- কোন কোন মানুষ হয় মদ্যপ।
বচন - বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলী বা MCQ
1)বাক্যের মাধ্যম কি?
Ans. বাক্যের মাধ্যম হলো ভাষা।
2) ভাষার উৎস কি?
Ans. ভাষার উৎস হলো চিন্তা।
3) বাক্যের কয়টি অংশ?
Ans. বাক্যের তিনটি অংশ।
4) বচনের অংশ কয়টি?
Ans. বচনের অংশ পাঁচটি।
5) অনুসারে বচন কয় প্রকার?
Ans. গুণ অনুসারে বচন দুই প্রকার।
6) পরিমাণ অনুসারে বচন কয় প্রকার?
Ans. পরিমাণ অনুসারে বচন দুই প্রকার।
7) গুণ ও পরিমাণ অনুসারে বচন কয় প্রকার?
Ans. গুণ ও পরিমাণ অনুসারে বচন চার প্রকার।
8) যে বচনে কিছু ঘোষণা করা হয়েছে তাকে কি বলে?
Ans. যে বচনে কিছু ঘোষণা করা হয় তাকে বলে ঘোষক বচন।
9) যুক্তির কাঠামো কি দিয়ে গঠিত হয়?
Ans. যুক্তির কাঠামো বচন দ্বারা গঠিত হয়।
10) যে বচনে একটি নির্দেশ বা অনুজ্ঞা থাকে তাকে কি বলে?
Ans. তাকে নির্দেশ সূচক বচন বলে।
যুক্তি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলী বা MCQ
HS Philosophy Suggestions।।
উচ্চমাধ্যমিক দর্শন সাজেশন।।
যুক্তি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।।
1)যুক্তি কাকে বলে?
Ans.যুক্তি হল অনুমানের ভাষায় প্রকাশিত রূপ।
2 )অবরোহ যুক্তির সিদ্ধান্তটি কি যুক্তিবাক্য থেকে ব্যাপকতর।
Ans.হ্যাঁ, অবরোহ যুক্তির সিদ্ধান্তটি যুক্তিবাক্যের চেয়ে ব্যাপকতর।
3 )আরোহ যুক্তির সিদ্ধান্তগুলি কি যুক্তিবাক্যের চেয়ে ব্যাপকতর ?
Ans.না, আরোহ যুক্তির সিদ্ধান্তগুলি যুক্তিবাক্যের চেয়ে ব্যাপকতর নয়।
4)তর্কবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?
Ans. তর্কবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ হল Logic ।
5)Logic শব্দটি কোন্ শব্দ থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
Ans.গ্রিক Logike শব্দ থেকে Logic শব্দটি উদ্ভূত হয়েছে।
6)Logos শব্দটির অর্থ কী?
Ans. Logos শব্দটির অর্থ হল চিন্তা বা চিন্তার বাহন।
7) গ্রিক Logike শব্দটি কোথা থেকে উদ্ভূত হয়েছে?
Ans. লাতিন Logos শব্দ থেকে Logike শব্দটি উদ্ভূত হয়েছে।
8) পদ কাকে বলা হয় ?
Ans. বচনের উদ্দেশ্য অথবা বিধেয়কে বলা হয় পদ (term ) ।
9)পদ-এর বিষয়টি কিভাবে উত্থিত হয়?
Ans. পদ-এর উদ্ভব হয় ধারণা (concept) থেকে।
10)ধারণা কাকে বলে?
Ans.মনে মনে একাধিক বিষয়ের সংযুক্তিকরণ বা বিযুক্তি করণকে বলা হয় ধারণা (concept)।
11)একাধিক ধারণার সমন্বয়ে কি গঠিত হয়?
Ans.একাধিক ধারণার সমন্বয়ে গঠিত হয় অবধারন (judgement)!
12 )অবধারন থেকে কিসের উদ্ভব হয় ?
Ans. অবধারন থেকে উদ্ভব হয় বাক্য (sentence)-এর।
13) বাক্য থেকে কি সৃষ্টি হয় ?
Ans. বাক্য থেকে বচন (proposition)-এর সৃষ্টি হয়।
14) বচন থেকে কীসের উদ্ভব হয়?
Ans. বচন থেকে উদ্ভব হয় যুক্তি (argument)-এর।
15) যুক্তি গঠিত হয় কী দিয়ে ?
Ans.যুক্তি গঠিত হয় বচন দিয়ে।
16)বচনগুলিকে যুক্তির কী বলা হয় ?
Ans.বচনগুলিকে যুক্তির অবয়ব বলা হয়।
17)অবরোহ যুক্তিতে কোন ধরনের সত্যতা আলোচনা করা হয়।
Ans. অবরোহ যুক্তিতে আকারগত সত্যতা আলোচনা করা হয়।
18) কোন যুক্তিতে সিদ্ধান্তগুলি যুক্তিবাক্য থেকে অনিবার্যভাবে মিঃসৃত হয়।
Ans. অবরোহ যুক্তিতে সিদ্ধান্তগুলি যুক্তিবাক্য যুক্তিবাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়।
19) যুক্তির আকার কাকে বলে?
Ans. যুক্তির কাঠামোকে বলা হয় যুক্তির আকার।
20) আরোহ যুক্তির সিদ্ধান্তগুলি কি যুক্তিবাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় ?
Ans.না, আরোহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তগুলি যুক্তিবাক্য খেলে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত নয়।
21)হেতুবাক্য বা যুক্তিবাক্য কাকে বলে?
Ans.যে বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি প্রতিষ্ঠিত বা প্রমাণিত হয়, তাকেই বলে হেতুবাক্য বা যুক্তিবাক্য।
22)সিদ্ধান্তবাক্য কাকে বলে ?
Ans. কোনো যুক্তিতে যে বাক্যকে প্রমাণ করা হয়, তাকেই বলে সিদ্ধান্তবাক্য।
23)অবরোহ যুক্তিতে যুক্তিবাক্য ও সিদ্ধান্তের সম্পর্ককে সম্পর্ক বলা হয়
Ans.অবরোহ যুক্তিতে যুক্তিবাক্য ও সিদ্ধান্তের মধ্যে সম্পর্ককে প্রসক্তি সম্বন্ধ বলা হয়।
24) আরোহ যুক্তির সিদ্ধান্তটি কীরূপ হয়?
Ans. আরোহ যুক্তির সিদ্ধান্তটি সবসময়ই সম্ভাব্য হয়।
25)কোন যুক্তি বৈধ অথবা অবৈধ রূপে গণ্য ?-
Ans. অবরোহ যুক্তি বৈধ অথবা অবৈধ রূপে গণ্য।
26) একটি যুক্তি কখন বৈধ হয় ?
Ans. সিদ্ধান্তটি যখন যুক্তিবাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তখন যুক্তিটি বৈধ হয়।
27)একটি যুক্তি কখন অবৈধ হয়? -
Ans. যুক্তিবাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি যখন অনিবার্যভাবে নিঃসৃত না
হয়, তখন তা অবৈধ যুক্তি হিসেবে গণ্য হয়।
28) একটি যুক্তি কি সত্য বা মিথ্যা হতে পারে?
Ans. না, যুক্তি সত্য বা মিথ্যা হতে পারে না।
29) সত্য বা মিথ্যার বিষয়টি কার সঙ্গে জড়িত?
Ans. সত্য বা মিথ্যার বিষয়টি বচনের সঙ্গে জড়িত।
30)অবরোহ যুক্তির বৈধতা কীসের ওপর নির্ভরশীল?
Ans. অবরোহ যুক্তির বৈধতা যুক্তির আকারের ওপর নির্ভরশীল।
31) কোনো বৈধ যুক্তির সিদ্ধান্ত কি মিথ্যা হতে পারে ?
Ans. হ্যাঁ, বৈধ যুক্তির সিদ্ধান্ত মিথ্যা হতে পারে।
32) বৈধ যুক্তির যুক্তিবাক্যগুলি কি সবসময়ই সত্য হয় ?
Ans.না, বৈধ যুক্তির যুক্তিবাক্যগুলি সত্যও হতে পারে আবার মিথ্যাও হতে পারে।
33) অবরোহ যুক্তির সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত না সম্ভাব্য ?
Ans. অবরোহ যুক্তির সিদ্ধান্তটি নিশ্চিতরূপে গণ্য হয়।
34) আরোহ যুক্তির সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত না সম্ভাব্য ?
Ans. আরোহ যুক্তির সিদ্ধান্তটি সম্ভাব্যরূপে গণ্য হয়।
35) কোন যুক্তির সিদ্ধান্তটি যুক্তিবাক্যকে অতিক্রম করে যায় ?
Ans. আরোহ যুক্তির সিদ্ধান্তটি যুক্তিবাক্যকে অতিক্রম করে যায়।
36)কোনো অবরোহ যুক্তির যুক্তিবাক্য সত্য এবং সিদ্ধান্ত মিথ্যা হলে যুক্তিটি বৈধ না অবৈধ হবে ?
Ans. যুক্তিটি এক্ষেত্রে অবৈধ হয়।
37) আরোহ যুক্তির সিদ্ধান্ত সার্বিক না বিশেষ রূপে গণ্য হয় ?
Ans আরোহ যুক্তির সিদ্ধান্ত সার্বিকরূপে গণ্য হয়।
38)যুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তিবাক্যের সংখ্যা কয়টি?
Ans.যুক্তিবাক্যের সংখ্যা এক আবার একাধিক হতে পারে।
39) বৈধ যুক্তি বলতে কী বোঝো? [সংসদ নমুনা প্রশ্ন ]
Ans. বৈধ যুক্তি হল এমনই যুক্তি যেখানে সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবে যুক্তিবাক্য থেকে নিঃসৃত হয়।
40) যুক্তির বস্তুগত সত্যতা বলতে কী বোঝো? [সংসদ নমুনা প্রশ্ন ] Ans.যুক্তির বস্তুগত সত্যতা বলতে বোঝায় যুক্তিটি বাস্তব ঘটনার
সঙ্গে সম্পৃক্ত। [সংসদ নমুনা প্রশ্ন ]
41) যুক্তি কাকে বলে?
Ans. অনুমানের ভাষাগত রূপ বা কাঠামোকেই বলে যুক্তি।
42)যুক্তির আকার কাকে বলে ? [সংসদ নমুনা প্রশ্ন ]
Ans.যুক্তির আকার হল যুক্তির প্রতীকী কাঠামো বা সাংকেতিক রূপ।
43) অবৈধ যুক্তি কাকে বলে?[সংসদ নমুনা প্রশ্ন ]
Ans যে যুক্তির সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবে যুক্তিবাক্য থেকে নিঃসৃত
নয়, তাকেই বলে অবৈধ যুক্তি।
44)যুক্তির আকারগত বৈধতা কাকে বলে? [সংসদ নমুনা প্রশ্ন ]
Ans. যুক্তির নিয়ম সংগত গঠনকেই বলা হয় আকারগত বৈধতা।
45) তর্কবিদ্যার ব্যৎপত্তিগত অর্থ কী?
Ans. ব্যুৎপত্তিগত অর্থে তর্কবিদ্যা হল ভাষার প্রকাশিত চিন্তা সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান।
46) তর্কবিদ্যাকে চিন্তা বা বুদ্ধির মূলনীতিসমূহের বিজ্ঞান রূপে কারা অভিহিত করেছেন ?
Ans. তর্কবিদ্যাকে চিন্তা বা বুদ্ধির মূলনীতিসমূহের বিজ্ঞানরূপে
হিউম এবং কান্ট অভিহিত করেছেন।
47)তর্কবিদ্যাকে কোপি কীভাবে সংজ্ঞায়িত করেন ?
Ans. তর্কবিদ্যা হল এমন কতগুলি পদ্ধতি বা নীতির আলোচনা যা
উত্তম যুক্তিকে মন্দ যুক্তি থেকে পৃথক করতে পারে ।
48)তর্কবিদ্যার আলোচ্য বিষয় কী ?
Ans. যুক্তি, যুক্তির আকার, যুক্তির বৈধতা বিচার, বচনের আকার, অনুমান প্রভৃতি হল তর্কবিদ্যার আলোচ্য বিষয়।
49)তর্কবিদ্যাকে কেন বলা হয় যে, তা যুক্তিবাক্য থেকে সিদ্ধান্তে উপনীতি হওয়া এক কলাকৌশল?
Ans. কারণ, তর্কবিদ্যায় মূল বিষয় যে যুক্তি, যেখানে হেতুবাক্য তথা যুক্তিবাক্য থেকে একটি সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়।
50)সবিচার চিন্তার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করাই হল তর্কবিদ্যার মূল কাজ ---একথা কে বলেন?
Ans. সবিচার চিন্তার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করাই হল তর্কবিদ্যার মূল কাজ—একথা বলেন স্টেবিং (Stebbing)। |
51)তর্কবিদ্যায় যুক্তির অংশগুলিকে কী বলা হয় ?
Ans. তর্কবিদ্যায় যুক্তির অংশগুলিকে অবয়ব বলা হয়।
52) যুক্তির অবয়ব কয়প্রকার ও কী কী?
Ans.যুক্তির অবয়ব দু-প্রকার যুক্তিবিদ্যা বা হেতুবাক্য এবং সিদ্ধান্ত।
53) তর্কবিদ্যায় পঠনের দিক থেকে যুক্তি কয়প্রকার ও কী কী?
Ans. তর্কবিদ্যার গঠনের দিক থেকে যুক্তি দু-প্রকার-অবরোহ ও আরোহ।
54)প্রকৃতিগত দিক থেকে যুক্তি কয়প্রকার ও কী কী?
Ans. প্রকৃতিগত দিক থেকে যুক্তি তিন প্রকার-নিরপেক্ষ যুক্তি,
সাপেক্ষ যুক্তি ও মিশ্র যুক্তি।
55) নিরপেক্ষ যুক্তির অবয়বগুলি কীরূপ?
Ans.নিরপেক্ষ যুক্তির অবয়বগুলি সবই হল নিরপেক্ষ বচন।
56) সাপেক্ষ যুক্তির অবয়বগুলি কীরূপ?
Ans.সাপেক্ষ যুক্তির অবয়বগুলি সবই হল সাপেক্ষ বচন।
57) মিশ্র যুক্তি কাকে বলে ?
Ans. যে যুক্তিতে নিরপেক্ষ ও সাপেক্ষ উভয়প্রকার অবয়বই থাকে,
তাকে বলে মিশ্র যুক্তি।
58) মিশ্র যুক্তির অপর নাম কী?
Ans. মিশ্র যুক্তির অপর নাম হল যৌগিক যুক্তি।
59)মিশ্র যুক্তির কোন্ অবয়বটি সাপেক্ষরূপে গণ্য
Ans. মিশ্র যুক্তির প্রথম অবয়বটি সাপেক্ষরূপে গণ্য।
60) মিশ্র যুক্তির সিদ্ধান্তটি কোন্ ধরনের বচন?
Ans.মিশ্র যুক্তির সিদ্ধান্তটি হল একটি নিরপেক্ষ বচন।
61) মুক্তির অবয়বগুলিকে কী বলা হয় ?
Ans. যুক্তির অবয়বগুলিকে বচন বা বাক্য বলা হয়।
62)একটি বচনের সত্য শর্ত (Truth claim ) কয়টি ও কী কী ?
Ans. একটি বচনের সত্য শর্ত দুটি—সত্য (T) ও মিথ্যা (F)।
63) একটি যুক্তি সত্য অথবা মিথ্যা একথা কি বলা যায় ?
Ans. না, বলা যায় না।
64)একটি বচন বৈধ অথবা অবৈধ — একথা কি বলা যায় ? Ans না, বলা যায় না।
65)তর্কবিদ্যায় চিন্তন সূত্র (laws of thought) বলে কিছু আছে কি?
Ans. হ্যাঁ, অবশ্যই আছে।
Friday, October 27, 2023
নিরপেক্ষ ন্যায় অনুমান এর নিয়ম
HS Philosophy Suggestion উচ্চমাধ্যমিক দর্শন সাজেশন
দ্বাদশ শ্রেণী দর্শন বিষয়ের নিরপেক্ষ ন্যায় অনুমান এর নিয়ম গুলি এক নজরে দেখে নিন।
উচ্চমাধ্যমিক দর্শন সাজেশন পাওয়ার জন্য আমাদের এই সাইটে ভিজিট করুন ।
নিরপেক্ষ ন্যায়ের নিয়মগুলি হলো নিম্নরূপ:-
১)প্রতিটি নিরপেক্ষ ন্যায় অনুমানে তিনটি পদ থাকবে তার বেশিও নয় কমও নয়।
*প্রধান আশ্রয় বাক্য।
*অ প্রধান আশ্রয় বাক্য।
*সিদ্ধান্ত।
*এই নিয়মটি লঙ্ঘন করলে চারিপদ ঘটিত দোষ হয়।
২)প্রতিটি নিরপেক্ষ ন্যায় অনুমানে তিনটি বচন থাকবে।
৩) হেতুপদকে দুটি আশ্রয় বাক্যের মধ্যে অন্তত একবার ব্যাপ্য হতে হবে।
*এই নিয়মটি লঙ্ঘন করলে অব্যাপ্য হেতু দোষ ঘটে।
৪) যেপদ আশ্রয় বাক্যে ব্যাপ্য হয়নি সেপদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হতে পারে না।
*এই নিয়মটি লঙ্ঘন করলে অবৈধ সাধ্য দোষ বা অবৈধ পক্ষ দোষ ঘটে।
৫)দুটি আশ্রয় বাক্য নেতিবাচক বা না - বাচক হলে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় না।
*এই নিয়মটি লঙ্ঘন করলে দুটি নং -অর্থক আশ্রয় বাক্য জনিত দোষ ঘটে।
৬) যেকোনো একটি বাক্য নেতিবাচক হলে সিদ্ধান্ত নেতিবাচক হবে।
৭)দুটি আশ্রয় বাক্য সদর্থক হলে সিদ্ধান্ত সদর্থক হবে।
সিদ্ধান্ত সদর্থক হলে আশ্রয় বাক্য গুলি সদর্থক হবে।
৮) দুটি আশ্রয় বাক্য বিশেষ হলে সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় না।
৯) দুটি আশ্রয় বাক্যের মধ্যে কোনো একটি বাক্য বিশেষ হলে অবশ্যই সিদ্ধান্ত বিশেষ হবে।
১০) যদি প্রধান আশ্রয় বাক্য বিশেষ হয় এবং অ প্রধান আশ্রয় বাক্য নেতিবাচক হয় তবে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় না।
সিদ্ধান্ত চেনার নিয়ম:-
১) সুতরাং , অতএব, তাই, তাই বলা যায়, কাজেই, কাজে কাজেই, ফলে এগুলো শব্দ যে বাক্যে থাকে সেই বাক্যটিকে সিদ্ধান্ত করতে হয়।
২)কারণ, কেননা, এগুলো শব্দ যে বাক্যে থাকে তার আগের বাক্য টিকে সিদ্ধান্ত করতে হয়।
৩) যেহেতু থাকলে সেহেতু অংশ টিকে খুঁজে বার করে সিদ্ধান্ত করতে হয়।
নিরপেক্ষ ন্যায় অনুমানের শুদ্ধমূর্তী গুলি নিম্নরূপ:
| শুদ্ধমূর্তি | |||
| প্রথম সংস্থান | দ্বিতীয় সংস্থান | তৃতীয় সংস্থান | চতুর্থ সংস্থান |
| BARBARA | CESARE | DARAPTI | BRAMANTI |
| CELARENT | CAMESTRES | DISAMIS | CAMENES |
| DARII | FRESTINO | FELAPTON | DIMARIS |
| FERIO | BARICO | BOCARDO | FESAPO |
| FERISON | FRESISON | ||
| DATISI | |||
সাধ্যপদ =P ( সাধ্যপদ থাকে প্রধান আশ্রয় বাক্য ও সিদ্ধান্তে ) পক্ষপদ =S (পক্ষপদ থাকে অ -প্রধান আশ্রয় বাক্যে ও সিদ্ধান্তে ) হেতুপদ =M ( হেতুপদ থাকে প্রধান আশ্রয় বাক্যে ও অ -প্রধান আশ্রয় বাক্যে) | |||
আবর্তন ও বিবর্তন এর নিয়ম
আবর্তন ও বিবর্তন এর নিয়ম:-
আবর্তনের নিয়মগুলি নিম্নরূপ:-
A বচনকে আবর্তন করলে I বচন পাওয়া যায়।
E বচনকে আবর্তন করলে E বচন পাওয়া যায়।
I বচনকে আবর্তন করলে I বচন পাওয়া যায়।
O বচনের আবর্তন সম্ভব নয়।
*উদ্দেশ্য কে বিধেয় এবং বিধেয় কে উদ্দেশ্য করতে হয়।
| আবর্তনের নিয়ম | |
| বচন | আবর্তিত বচন |
| A | I |
| E | E |
| I | I |
| O বচনের আবর্তন সম্ভব নয়। | |
| উদ্দেশ্য কে বিধেয় এবং বিধেয় কে উদ্দেশ্য করতে হয়। | |
বিবর্তনের নিয়মগুলি নিম্নরূপ:-
A বচনকে বিবর্তন করলে E বচন পাওয়া যায়।
E বচনকে বিবর্তন করলে A বচন পাওয়া যায়।
I বচনকে বিবর্তন করলে O বচন পাওয়া যায়।
O বচনকে বিবর্তন করলে I বচন পাওয়া যায়।
"বিধেয় এর আগে নয় যোগ করে বিধেয় কে বিপরীত বা অ যোগ করতে হয়।"
দ্বাদশ শ্রেণীর দর্শন বিষয় এর সূচিপত্র
দ্বাদশ শ্রেণীর দর্শন বিষয় এর সূচিপত্র
HS PHILOSOPHY SYLLABUS
বিভাগ ক
অবরোহ যুক্তিবিজ্ঞান অথবা অবরোহমূলক তর্কবিদ্যা
1.যুক্তি
2. বচন
3.বচনের বিরোধিতা
4.আমাধ্যাম অনুমান
5.নিরপেক্ষ ন্যায়
6. প্রাকল্পিক ও বৈকল্পিক ন্যায়
7. বুলীয় ব্যাখ্যা ও ভেনচিত্র
8. সত্যাপেক্ষ
বিভাগ খ
আরোহমূলক যুক্তিবিজ্ঞান অথবা আরোহমূলক তর্কবিদ্যা
1. আরোহ অনুমানের স্বরূপ
2.কারণ
3.মিলের পরীক্ষামূলক পদ্ধতি
4. আরোহমূলক দোষ বা অনুপত্তি
Thursday, October 26, 2023
বচনে পরিবর্তনের নিয়ম
উচ্চমাধ্যমিক দর্শন সাজেশন
HS Philosophy Suggestion
https://PhilosophySuggestions.blogspot.com
Philosophy Suggestion
Higher Secondary Philosophy Suggestions
বচনে পরিবর্তনের নিয়ম গুলি নিম্নরূপ:
সকল,হয় A বচন সম্পূর্ণ স্বীকার।
কোন, নয় E বচন সম্পূর্ণ অস্বীকার।
কোন কোন, হয় I বচন আংশিক স্বীকার।
কোন কোন, নয় O বচন আংশিক অস্বীকার।
১) সব,সমস্ত,প্রত্যেক, যে সে, যদি তবে, যেখানে সেখানে, যেমন তেমন, নিশ্চিত, নিশ্চিত ভাবে, সদা, সর্বদা, যে কেউ এই গুলি শব্দ যে বাক্য থাকবে সেই বাক্য কে A বচনে রূপান্তরিত বা পরিবর্তিত করতে হবে।
বাক্যটি যদি নেতি বাচক বা না বাচক হয় তাহলে তাকে মানে সেই বাক্যটিকে O বচনে রূপান্তরিত বা পরিবর্তিত করতে হবে।
উদাহরণ: ১) শিশুরা সরল।
L.F - (A) সকল শিশু হয় সরল।
২) সব রোগ মারাত্মক নয় ।
L.F - (O) কোনো কোনো রোগ নয় মারাত্মক।
২)যে বাক্যে নয়, কেউ নয়, কাউকে নয়, নেয়, বেশি কিছু নয়, কখনো নয়, একটাও নয়, একনয়, হতে পারে না, এই গুলো শব্দ যে বাক্যে থাকবে তাকে E বচনে পরিবর্তন করতে হবে।
উদাহরণ: ১) লাল ফুলের গন্ধ নেই।
L.F- (E) কোনো লাল ফুল নয় গন্ধযুক্ত বস্তু।
২) গোলাকার চতুর্ভুজ নেই।
L.F - (E) কোনো চতুর্ভুজ নয় গোলাকার।
৩) যে বাক্যে কিছু কিছু , কখনো কখনো, অল্প সংখ্যক, অধিকাংশ, সাধারণত, অনেক এই শব্দ গুলো যদি থাকে তবে I বচনে রূপান্তরিত করতে হবে।
যদি বাক্যটি না বাচক হয় তবে তাকে O বচনে রূপান্তরিত করতে হবে।
উদাহরণ: ১)কবিরা ভাবুক হয়।
L.F- (I) কোনো কোনো কবি হয় ভাবুক।
২) সব বাক্য বচন নয়।
L.F- (O) কোনো কোনো বাক্য নয় বচন।
৪) যে বাক্যে কদাচিৎ , কচিৎ, খুব কম, খুব অল্প, স্বল্প সংখ্যক ,তাই বললেই চলে সেই বাক্যটিকে I অথবা O বচনে রূপান্তরিত করতে হবে।
•যদি হ্যাঁ থাকে তবে O বচন হবে।
•যদি না থাকে তবে I বচন হবে।
উদাহরণ: ১) কদাচিৎ মানুষ সৎ।
L.F - (O) কোনো কোনো মানুষ নয় সৎ।
২) খুবকম মানুষ চোর নয়।
L.F - (I) কোনো কোনো মানুষ হয় চোর।
৫) মাত্র, শুধুমাত্র, শুধু , কেবল মাত্র, একমাত্র, একান্ত, ছাড়া, কেউ নয়, ব্যতীত, কেউ না , এগুলো শব্দ যে বাক্যে থাকবে তাকে A বচনে রূপান্তরিত করতে হবে।
•উদ্দেশ্য কে বিধেয় করতে হবে।
•বিধেয় কে উদ্দেশ্য করতে হবে।
উদাহরণ: ১) একমাত্র নাগরিকরাই ভোটদাতা।
L.F - (A) সকল ভোতদাতা হয় নাগরিক।
৬)একটি থাকলে এবং আছে থাকলে I বচন করতে হবে, যদি নির্দিষ্ট করে বলে দেওয়া হয় তবে এ বচন করতে হবে।
উদাহরণ : ১) একটি ছাত্র বুদ্ধিমান।
L.F - (I) কোনো কোনো ছাত্র হয় বুদ্ধিমান ব্যক্তি।
২) সাদা হাতি আছে।
L.F - (I) কোনো কোনো হাতি হয় সাদা বর্ণের।
৭)জিজ্ঞাসা চিহ্ন থাকলে - যদি না বচন থাকে তবে A বচন হবে এবং যদি হ্যাঁ বাচক হয় তবে E বচন হবে।
উদাহরণ: ১) সেকি চালক নয়?
L.F - (A) সে হয় চালক ব্যক্তি।
২) সেকি বুদ্ধিমান?
L.F - (E) সে নয় বুদ্ধিমান।
৮) গুণ ও পরিমাণ অনুসারে বচন চার প্রকার।
•সামান্য সদর্থক= A বচন।
•সামান্য নংর্থক =E বচন।
•বিশেষ সদর্থক= I বচন।
•বিশেষ নংর্থক= O বচন।
উদাহরণ:-
•মানুষ মরণশীল
L.F.- সকল মানুষ হয় মরণশীল।
গুণ - সদর্থক
পরিমাণ - সামান্য
*প্রত্যেক মানুষ মরণশীল।
L.F. A- সকল মানুষ হয় মরণশীল।
পরিমাণ - সামান্য, গুণ - সদর্থক।
* মানুষ পূর্ণ নয়।
L.F. E- কোনো মানুষ নয় পূর্ণ।
উদ্দেশ্য - ব্যাপ্য , বিধেয় - ব্যাপ্য।

















